প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১১
সংগৃহীত ছবি।
প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়েই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি নিজেই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বাসসকে বলেন, রাষ্ট্রপতির নামের আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ পরিহারের পরিপত্রটি একটি যুগোপযোগী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রটি সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিপত্রের ব্যত্যয় না ঘটানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পরিপত্রটি প্রশাসনের সর্বস্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না বলেও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ বলেন, পরিপত্রটি মাঠ প্রশাসনের সব পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার কয়েকটি সরকারি চিঠিপত্রে এর বাস্তবায়নও দেখা গেছে। কোনো দপ্তরে এর ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন