বাংলাদেশ

কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৭

কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমেছে।

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর ফের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল।
তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবারও কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে, বেড়েছে লোডশেডিং।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার সন্ধ্যা পিকে আদানির কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পিকে সরবরাহ নেমে আসে ৬৯১ মেগাওয়াটে। বৃহস্পতিবারও কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে আদানির কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসত।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে।
কেন্দ্রটির কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা গেলে উৎপাদন আবার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক বর্তমানে কাজে লাগছে না।
এদিকে জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন