প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৯
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি সম্পদের সঠিক ব্যবহার বিষয়ক পরামর্শ সভা ও কর্মশালায় অতিথিরা।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলজ সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে হাউসবোট নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল এলাকায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, হাওর রক্ষায় পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি সম্পদের সঠিক ব্যবহার’ শীর্ষক পরামর্শ সভা ও কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কার্যক্রম ও জলাভূমি সম্পদের বিচক্ষণ ব্যবহারের ওপর মূল প্রবন্ধ ও উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক সাহেদা বেগম।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপসচিব আমিরুল কায়সার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস রঞ্জন শীল, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় হিজল-করচসহ দেশীয় জলসহিষ্ণু বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন জোরদার, হাওরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আধার। তাই হাওরের সম্পদ ব্যবহারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, উন্নয়ন ও পর্যটনের পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশব্যবস্থা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জীববৈচিত্র্য, জলজ সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে হাওরের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন