প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৭
জেনারেল এমএজি ওসমানী ও মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
মহান মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তাঁর জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জেনারেল ওসমানীর প্রতি যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তাঁর সম্পর্কে পাঠ্যপুস্তকে কোনো তথ্য নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শরম পেয়েছি, আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাই। আমরা জেনারেল ওসমানীর প্রতি কোনো মর্যাদা রাখিনি।”
সংসদ সদস্য বলেন, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মরহুম জেনারেল এমএজি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী ছিল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করেন। তাঁর মনে হয়েছে, দেশে জেনারেল ওসমানী নামে কোনো ব্যক্তির জন্মই হয়নি।
পরে বিষয়টি জানার চেষ্টা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী নিয়ে কোনো সংবাদ দেখতে পাননি। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা ধরনের টকশো হলেও এ বিষয়টি কেউ প্রয়োজনীয় মনে করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য। কমিটির মাত্র একটি সভা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি কুমিল্লা থেকে এসে ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেলিভিশনে অনেক কিছু দেখানো হলেও জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর বিষয়টি দেখানোর সুযোগ হয়নি। দেশে অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও এ বিষয়ে কেউ উদ্যোগ নেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মনিরুল হক চৌধুরী জেনারেল ওসমানীর সামরিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই যুদ্ধে জেনারেল ওসমানীর সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হলে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। জেনারেল জিয়ার প্রসঙ্গও তিনি এ বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
জেনারেল ওসমানীর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অন্তত তাঁর অবদানের জন্য দেশের সংশ্লিষ্ট মানুষের তাঁকে স্মরণ করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধে তিনি কী করেছেন, তা বলতে গেলে ঘণ্টা লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানীর অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি অভিযোগ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি বিভিন্ন বই, শিশুদের বই ও স্কুলের বই সংগ্রহ করে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেছেন। এক দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা বইগুলোতে কোথাও জেনারেল ওসমানীর বিষয়ে তথ্য দেখতে পাননি বলে জানান তিনি। তবে এটি তাঁর অজ্ঞতার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
জেনারেল ওসমানীর সামরিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি সরকারের একজন ছিলেন এবং ফিরে আসার পর শুধু বাঙালি হওয়ার কারণে ও ইস্ট বেঙ্গলের নেতৃত্বের কারণে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি কমান্ড গ্রহণ করেন বলেও উল্লেখ করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
জেনারেল ওসমানীকে নিরহংকার, সৎ ও সাহসী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো নিরহংকার, সৎ ও সাহসী ব্যক্তি জন্ম নিয়ে থাকলে জেনারেল ওসমানী তাঁদের একজন।
তিনি জেনারেল ওসমানীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে সংসদীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি নোটিশও দিয়েছেন। জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন বাধ্যতামূলক করা অথবা জাতীয় কর্মসূচির আওতায় তা পালনের পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে তাঁর জীবন অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সংসদ থেকে একটি সরাসরি সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন