নিশাত দিরাইয়ের ‘অনির্বাণ নৃত্যাঙ্গন’-এর নিয়মিত শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের চর্চা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্য এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪২
ছবি: প্রতিনিধি
মফস্বল শহর দিরাই থেকে জাতীয় নৃত্যের মঞ্চে উঠে জোড়া স্বর্ণপদক অর্জন করেছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ও ক্ষুদে নৃত্যশিল্পী নিশাত নওশিন নাহারিন জান্নাত নিধি। ‘নৃত্যময়’ আয়োজিত দেশব্যাপী ‘চ্যাম্পিয়নের সেরা স্বর্ণপদক-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে ‘সেরার সেরা’ খেতাবের পাশাপাশি সাধারণ নৃত্যেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে সে।
নিশাত দিরাইয়ের ‘অনির্বাণ নৃত্যাঙ্গন’-এর নিয়মিত শিক্ষার্থী। নৃত্যশিক্ষক সুচিতা রায়ের কাছে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন করে আসছে সে। দীর্ঘদিনের চর্চা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্য এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে নিশাত নওশিন বলে, ‘আমিও আমার ম্যাডামের মতো বড় হতে চাই।’ নৃত্যচর্চার পাশাপাশি বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ারও স্বপ্ন দেখে পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
মেয়ের সাফল্যে আনন্দিত নিশাতের বাবা নূরে আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে আধুনিক সংস্কৃতির শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই গ্রামের বাড়ি থেকে দিরাই শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে ওর পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য শেখার ব্যবস্থা করেছি। আজ জাতীয় মঞ্চে মেয়ের এই অর্জনে আমাদের সব ত্যাগ ও কষ্ট সার্থক হয়েছে।’
নিশাতের সাফল্যে গর্বিত তার নৃত্যশিক্ষিকা সুচিতা রায়ও। তিনি বলেন, ‘নিশাত প্রবল প্রাণশক্তির অধিকারী এবং ভীষণ পরিশ্রমী একটি মেয়ে। দীর্ঘদিনের অনুশীলনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার আগে শেষ কয়েকদিন আমাদের বাসায় এসে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা রিহার্সাল করেছে। নিশাতের এই জয়ে মনে হচ্ছে আমার নিজের লালিত স্বপ্নই একটু একটু করে পূরণ হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সাফল্য দিরাইয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্য শিশু ও অভিভাবকদেরও সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করবে। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে চর্চা চালিয়ে গেলে নিশাত একদিন নৃত্যরত্ন হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং শুদ্ধ সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
নিশাতের জোড়া স্বর্ণপদক জয়ের খবরে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পাশাপাশি দিরাইয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মফস্বল শহর থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য দিরাইয়ের শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন