সংগৃহীত ছবি।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আলোচিত মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তিন বছর পর কবর থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল তুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার কঙ্কালটি উত্তোলনের পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রাজধানীর মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে হযরত নবীন শাহ্ (রহ.) মাজার রয়েছে। প্রতিবছর সেখানে বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি নবীন শাহ্’র মাজারে ১৫৬তম বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসকে কেন্দ্র করে মাজারের সামনে নাচ-গানের আসর বসে।
ওই অনুষ্ঠানে নারী শিল্পীসহ অন্যদের সঙ্গে আবুল কালাম ও আব্দুল আজিজ নৃত্য করেন। পরে নাচ ও গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে নাচতে একপর্যায়ে কালাম ও আজিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁদের মরদেহ দাফন করা হয়। এ নিয়ে মৃত আবুল কালামের স্বজনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁদের দাবি, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া প্রভাব বিস্তার করে ময়নাতদন্ত ছাড়া তাঁকে দাফন করেন।
দুই বছর পর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল মৃত আবুল কালামের ছোট ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
বাদী সুমন মিয়ার দাবি, তাঁর ভাইকে পানের সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সখ্য থাকায় তাঁরা জোর করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেন। তাঁদের মামলা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি মামলা করেন।
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে আবুল কালামের কঙ্কাল কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তা রাজধানীর মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন