প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:২৮
সংগৃহীত ছবি।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা যেতে পারে। গবেষকদের ধারণা, ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।
গবেষণার ফলাফল নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক, লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে এ গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেকর্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে।
গবেষণা অনুযায়ী, মে মাসের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইউরোপে নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রা ছিল। পশ্চিম ইউরোপে এ বছরের গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হয়েছে।
জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনের আগে এ মৃত্যুর হিসাব সামনে এসেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। বার্নসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ঠেকাতে বিশ্ব পিছিয়ে আছে; দ্রুত পদক্ষেপ ও দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় না বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন