ধর্ম ও জীবন

মানবতার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৯

প্রতীকী ছবি

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।’—সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রহমত হিসেবে পাঠানোর অন্যতম কারণ হলো, তাঁর মাধ্যমে মানুষকে সরল পথে পরিচালিত করে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার পথ দেখানো হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাঁর উদাহরণ এমন এক ব্যক্তির মতো, যিনি আগুন জ্বালানোর পর চারপাশ আলোকিত হলে মানুষকে সেই আগুনে পতিত হওয়া থেকে বাধা দিতে থাকেন। কিন্তু মানুষ তাঁর বাধা অগ্রাহ্য করে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই রাসুল (সা.) মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। —সহিহ মুসলিম: ৫৭৫৮
মানুষের হেদায়াতের জন্য রাসুল (সা.)-এর আকাঙ্ক্ষা ছিল অত্যন্ত গভীর। মানুষ ঈমান না আনায় তাদের জন্য তাঁর মনে এত কষ্ট হতো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তারা ঈমান আনছে না বলে সম্ভবত আপনি দুঃখে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেবেন।’—সুরা আশ-শুআরা: ৩
মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু আখিরাতের কল্যাণের পথ দেখাননি; দুনিয়াবি জীবনেও মানুষের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও সদাচরণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। দরিদ্র, প্রতিবেশী ও এতিমদের প্রতি দয়া ও সদ্ব্যবহার করতেন। তাঁর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি সাধ্য অনুযায়ী তা দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
আল্লাহর পথে শত্রুর মোকাবিলা ছাড়া তিনি নিজের হাতে কাউকে আঘাত করেননি। জীবনে যা উপস্থিত থাকত, তা-ই গ্রহণ করতেন। নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অভাবী মানুষকে অগ্রাধিকার দিতেন। নিঃস্বদের বোঝা বহন করতেন, অভাবীদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিতেন এবং বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতেন।
প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা
রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যক্তিগত জীবনে কখনো প্রতিশোধপরায়ণ ছিলেন না। মক্কার মানুষ তাঁকে নির্যাতন করে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল। তবুও মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন।
তিনি ঘোষণা করেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি পরম দয়ালু।’
এ ঘটনা প্রমাণ করে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্রে ক্ষমা, সহনশীলতা ও দয়ার গুণ কতটা গভীরভাবে বিদ্যমান ছিল।
দয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।’—সহিহ বুখারি: ৫৯৯৭
তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানবাসী—আল্লাহ—তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’—সহিহ মুসলিম: ২৩১৮
পবিত্র কোরআনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসুল এসেছেন। তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণে অতি আগ্রহী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু।’—সুরা আত-তাওবা: ১২৮
তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ হলো তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা, দুর্বল ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষমা ও সহমর্মিতার চর্চা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরআনের আয়াত ও সুস্পষ্ট বাণী থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার সামর্থ্য দান করুন। আমিন।

ধর্ম ও জীবন থেকে আরো পড়ুন