সিলেট

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে হিমাগারের অভাবে হতাশ কৃষক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৪৪

সংগৃহীত ছবি।

চা-বাগানের সবুজে ঘেরা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলে পাহাড়ি ঢাল, উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় বছরজুড়ে ফলমূল ও নানা জাতের মৌসুমি সবজি উৎপাদিত হলেও একটি হিমাগারের অভাবে হতাশ এখানকার কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, আলু, টমেটো, করলা, শিম, লেবু থেকে শুরু করে আনারস উৎপাদনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি, তবে এসব সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার উদ্যোগ ও প্রস্তাবের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা এখনো পূরণ হয়নি। ফলে মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায় এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়।

কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, রহিমপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে কৃষিপণ্য উৎপাদন করছেন। কমলগঞ্জের টমেটোচাষি আব্দুল মতিন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে কিছু করার থাকে না, হিমাগার থাকলে ফসল রেখে পরে ভালো দামে বিক্রি করা যেত। আরেক চাষি করিম মিয়া বলেন, মৌসুমে একসঙ্গে বাজারে অনেক টমেটো আসায় দাম পড়ে যায়, হিমাগার থাকলে কিছুদিন সংরক্ষণ করে ন্যায্য দাম পাওয়া যেত।

হিমাগারের অভাবে আলুচাষিরাও বিপাকে আছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে আলুবীজ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতি মৌসুমে অন্য জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয়, যাতে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং বাইরের বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। কৃষকদের মতে, হিমাগার থাকলে উৎপাদিত আলু পরবর্তী মৌসুমে বীজ হিসেবে ব্যবহার এবং দাম কম থাকা অবস্থায় সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে, যাতে লোকসানের ঝুঁকি কমবে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনের মৌসুমে মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারদের ওপর নির্ভর করে পণ্য বিক্রি করতে হয়। হিমাগার থাকলে বাজারদর বুঝে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার আলোচনা এবং সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন ও প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, লেবু, আনারস ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং শ্রীমঙ্গলে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত প্রয়োজন এবং বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, কমলগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কৃষকদের স্বার্থে মৌলভীবাজারে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে তারা বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত কথা বলে আসছেন এবং এটি স্থাপিত হলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন