সিলেট

সুনামগঞ্জে সার পাচারের অভিযোগ, ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩২

সংগৃহীত ছবি।

সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে সার পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএডিসির গুদাম ও লেবার সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের সহায়তায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এই চক্র নিয়মবহির্ভূতভাবে সার উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দেয় বলে অভিযোগ, যার ফলে মৌসুমে হাওরে সার সংকট দেখা দেয় এবং কৃষকদের অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে হয়।

সুনামগঞ্জ বিএডিসি (বাংলাদেশ এগ্রিকালচার করপোরেশন) সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে বিএডিসির মল্লিকপুরস্থ গুদাম থেকে নিয়ম ছাড়াই ১৮ জন ডিলারের সার একাই তুলে নেওয়ার সময় জামালগঞ্জের ডিলার আবুল কালামের চালান আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল। এ ঘটনায় বিএডিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিলেও এখনো আবুল কালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া সার পাচারের অভিযোগ রয়েছে ধর্মপাশার ডিলার শামছু মিয়া ও তাহিরপুরের বাদাঘাটের ডিলার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও, যাদের মধ্যে হাফিজুরের বিরুদ্ধে সার পাচারের একটি মামলা চলমান রয়েছে। কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চালান কাটার দিনই কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার গুদামজাত করার কথা থাকলেও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে না গিয়ে এরাইভাল রিপোর্ট দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ মে এভাবে এরাইভাল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। এ ছাড়া জামালগঞ্জের অভিযুক্ত আবুল কালামসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার উত্তোলনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছে বিএডিসি, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করলেও এখনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, সরকার প্রতি বস্তা সারে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি ভর্তুকি দেয়, যা স্থানীয় ডিলার ও গুদাম সংশ্লিষ্ট একটি চক্র প্রায়ই পাচার করে দেয় বলে তাদের দাবি। জেলায় বিএডিসি ও বিসিআইসির মোট ১৪৮ জন ডিলার থাকলেও তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন সিন্ডিকেট করে সার পাচারে জড়িত বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার হাফিজুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকলেও তিনি পাচার বা কোনো অনিয়মে জড়িত নন এবং নিয়মিত মাস্টাররোল রাখেন। অপর অভিযুক্ত ধর্মপাশার শামছু মিয়া জানান, সম্প্রতি স্ট্রোকজনিত অসুস্থতার কারণে অপারেশন হয়েছে তার এবং তিনি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। জামালগঞ্জের ডিলার আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিক্রিয়া জানাননি।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, গুদামে সারের মজুত রেখে এরাইভাল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, পরে তারা ডিলারদেরও নোটিশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিএডিসির সিলেট বিভাগের উপপরিচালক (সার) হুমায়ুন কবীর বলেন, সুনামগঞ্জ বা সিলেটে সার পাচারের কোনো সুযোগ নেই এবং যারা সার উত্তোলনে অনিয়ম করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ১৭ জন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন