সিলেট

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প ঝুলে আছে পরিকল্পনা কমিশনে

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:১০

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের একটি ভরাট হয়ে যাওয়া নদী

হাওরাঞ্চলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রস্তাবিত প্রকল্প দুই বছর পেরিয়েও পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প দ্রুত একনেকে তোলার দাবি জানিয়েছেন হাওরবাসী।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১৩ নদীর নাব্য সংকট নিরসনে নেওয়া উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় প্রতি বোরো মৌসুম ঘনিয়ে এলে কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাব এবং বর্ষা ও আগাম বৃষ্টিতে নদীর পানি দ্রুত হাওরে প্রবেশ করা—এই দুই ধরনের সংকট নিয়ে বছরের পর বছর চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে জেলার ১৩টি নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় পাউবো, যা ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে তিন বছরে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি।

কৃষক ও হাওর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পলি জমে সংকুচিত হয়ে অনেক নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা—উভয় সমস্যাই দেখা দিচ্ছে, যা কৃষিজমি প্রস্তুত, বোরো আবাদ ও ফসল সংগ্রহে প্রভাব ফেলছে।

গত বোরো মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় দেখার হাওর এলাকায়, যেখানে মহাসিং নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ পরিস্থিতিতে নির্মিত উথারিয়া বাঁধকে কেন্দ্র করে বাঁধ কেটে দেওয়া বনাম বহাল রাখা নিয়ে স্থানীয়ভাবে মতবিরোধ দেখা দিলে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত গত বছর বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। কৃষকদের অভিযোগ, এর আগেই জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ অবস্থায় মহাসিং নদী খনন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষক আলী আসগর ইমন বলেন, জেলার প্রতিটি নদীর নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে এবং ফসল ঘরে তোলার সময় জলাবদ্ধতায় ডুবে গেলে কৃষকদের এক মৌসুমের ক্ষতি সামলাতে কয়েক বছর লেগে যায়।

বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বলেন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে উপেক্ষা করে নির্মিত অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কারণেই মূলত নাব্য সংকট তৈরি হয়েছে এবং হাওরাঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দিরাই উপজেলার কৃষক ও হাওর মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব একে কুদরত পাশা বলেন, নদীগুলো খনন হলে হাওরে জলাবদ্ধতা কমে কৃষকদের দুর্ভোগও কমবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, আবুয়া, পাটলাই, সুরেশ্বরী, সুরমাসহ ১৩ নদী খননের প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া আছে এবং সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হবে এবং আগামী বোরো মৌসুমের আগেই নদী খননের কাজ শুরু করা যাবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন