লাইফস্টাইল

অন্ত্রের যত্নে ঘরে তৈরি ৫ ফার্মেন্টেড খাবার ও পানীয়, মানতে হবে নিরাপত্তার শর্ত

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:০০

ছবি: এআইয়ের সহায়তায় বানানো

শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পেট ভরে খাওয়াই যথেষ্ট নয়, খাবার হজম হওয়া এবং পুষ্টি শোষিত হওয়াও জরুরি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অন্ত্রে থাকা অসংখ্য অণুজীব। উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং হজমে সাহায্য করে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দইয়ের মতো খাবার রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যায় কয়েকটি পরিচিত পানীয়, যা খাবারে বৈচিত্র্য আনবে এবং অন্ত্রের যত্নে সহায়ক হতে পারে।

টক দইয়ের লাচ্ছি

দই দিয়ে তৈরি লাচ্ছি সহজ, সুস্বাদু এবং গরমের দিনে আরামদায়ক পানীয়। দইয়ে জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে।

উপকরণ: টক দই ১ কাপ, ঠান্ডা পানি আধা কাপ, ভাজা জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ এবং সামান্য লবণ।

পদ্ধতি: দই, পানি, জিরার গুঁড়া ও লবণ একসঙ্গে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণটি মসৃণ হলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। অতিরিক্ত চিনি না দিলেও এটি সুস্বাদু হবে। চাইলে স্বাদের জন্য সামান্য পুদিনাপাতা যোগ করতে পারেন।

বিটরুটের পানীয়

বিটরুট দিয়ে তৈরি টক স্বাদের পানীয় পরিচিত। এতে বিটের স্বাভাবিক রং ও স্বাদ পাওয়া যায়।

উপকরণ: মাঝারি আকারের বিটরুট ১টি, পরিশোধিত পানি ৩ কাপ, সরিষার গুঁড়া ১ চা-চামচ এবং লবণ পরিমাণমতো।

পদ্ধতি: বিটরুট ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করুন। পরিষ্কার কাচের পাত্রে বিটরুট, সরিষার গুঁড়া, লবণ ও পানি মিশিয়ে দিন। তৈরি হলে ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করুন। অপরিচিত ছত্রাক, অস্বাভাবিক গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে পান করবেন না।

পান্তা ভাত

বাঙালির পরিচিত খাবার পান্তা ভাত তৈরি করা সহজ। গরম ভাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খাওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে ভাত দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি থাকে।

উপকরণ: রান্না করা ভাত ১ কাপ, নিরাপদ পানীয় পানি প্রয়োজনমতো এবং সামান্য লবণ।

পদ্ধতি: ভাত কিছুটা ঠান্ডা হলে পরিষ্কার পাত্রে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ঘরের তাপমাত্রায় আবহাওয়া অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা রেখে দিন। খাওয়ার আগে প্রয়োজনমতো লবণ মেশান। নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলে ভাত ফার্মেন্ট করার জন্য বাইরে রেখে দেবেন না।

লবণ-পানিতে মজানো আমলকি

আমলকিতে ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। লবণ-পানিতে মজিয়ে রাখলে এর স্বাদে পরিবর্তন আসে। সঠিকভাবে ফার্মেন্ট করা হলে এটি খাবারে বৈচিত্র্য আনতে পারে।

উপকরণ: আমলকি ২৫০ গ্রাম, পরিশোধিত পানি প্রয়োজনমতো, লবণ ৫ গ্রাম এবং চাইলে সামান্য সরিষার গুঁড়া।

পদ্ধতি: আমলকি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। পরিষ্কার কাচের বয়ামে আমলকি, লবণ ও পানি দিন, যাতে ফলগুলো পানির নিচে থাকে। চাইলে সামান্য সরিষার গুঁড়া যোগ করুন। নিরাপদ ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তুত করুন এবং তৈরি হলে ফ্রিজে রাখুন। অস্বাভাবিক ছত্রাক বা দুর্গন্ধ দেখা দিলে ফেলে দিন।

আদা পানীয়

একটি কাচের পাত্রে আদাকুচি, চিনি ও পানি দিয়ে ঢাকনা আটকে দিন। পরে ২-৩ দিন রেখে দিন। আবার একটু আদাকুচি ও চিনি যোগ করে আরও এক দিন রেখে দিন। তাহলেই তৈরি হবে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ পানীয়।

অন্ত্রের যত্নে দইয়ের মতো ফার্মেন্টেড খাবার, পর্যাপ্ত পানি, আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল ও ডাল খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। ঘরে তৈরি ফার্মেন্টেড খাবার প্রস্তুতের সময় পরিষ্কার পাত্র, নিরাপদ পানি ও সঠিক সংরক্ষণবিধি মেনে চলুন। তবে সব ফার্মেন্টেড খাবারেই জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া সমান পরিমাণে থাকে না। তাই স্বাদ ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি খাবারের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিন।

সূত্র: গুড ফুড, হেলথ লাইন, এনডিটিভি

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন