স্বাস্থ্য

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব: কারণ ও প্রতিকার

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:২৭

সংগৃহীত ছবি।

গবেষণায় দেখা যায়, সন্তান জন্মদানে অক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। তবু আমাদের সমাজে বন্ধ্যাত্বকে সাধারণত নারীর সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়। সন্তান না হলে অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর ওপর দায় চাপানো হয়, আর পুরুষ বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি থেকে যায় আলোচনার বাইরে।

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব কী

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সংজ্ঞায়, নিয়মিত ও অরক্ষিত যৌন মিলন সত্ত্বেও এক বছরের বেশি সময়ে নারী সঙ্গী গর্ভধারণ করতে না পারলে এবং কারণ পুরুষের দিকে থাকলে তাকে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। মানসিক অবসাদ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রধান কারণ

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকা বা মান খারাপ হওয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের কম হলে প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে:

শুক্রাণুর দুর্বল গুণমান: শুক্রাণুর আকৃতি বা নড়াচড়া ঠিক না থাকলে ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানো ও নিষিক্ত করা কঠিন হয়। অভ্যন্তরীণ ব্লকেজ: শুক্রাণু বহনকারী নালিতে বাধা থাকলে শুক্রাণু গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। জিনগত কারণ: কিছু জিনগত অবস্থা শুক্রাণু উৎপাদন বা কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস: আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে শুক্রাণুর মান প্রভাবিত হতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: এটি শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতা: কিছু অস্ত্রোপচারের পর প্রজনন ক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে। প্রজনন অঙ্গে আঘাত: গুরুতর আঘাতে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হতে পারে। প্রজনন অঙ্গে যক্ষ্মা: এতে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। যক্ষ্মা এখন চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। আরও কয়েকটি অবস্থা: বীর্যে শুক্রাণু না থাকা (এজোস্পার্মিয়া), অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি না হওয়া, শুক্রাণু অতিদুর্বল হওয়া এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের নিঃসরণে ঘাটতি।

নীরবতার সামাজিক প্রভাব

অনেক পুরুষ সমস্যাটি গোপন রাখেন, কারণ সমাজে ধারণা প্রচলিত যে বন্ধ্যাত্ব কেবল নারীর সমস্যা। সমাধান হিসেবে অনেক সময় আবার বিয়ের কথা বলা হয়, যা সমস্যার সমাধান না করে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবকেই জোরদার করে। অথচ যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই এর সমাধান সম্ভব।

প্রতিকার ও সতর্কতা

আধুনিক চিকিৎসায় পুরুষ বন্ধ্যাত্বের রোগীদের অনেকাংশেই সুস্থ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন:

যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ সুষম খাদ্যাভ্যাস ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকে বের হওয়া ঢিলেঢালা পোশাক পরা, কারণ টাইট অন্তর্বাস অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে

স্বাস্থ্য থেকে আরো পড়ুন