প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:০৮
সংগৃহীত ছবি।
দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে বিমানের ভেতর থেকেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পরপরই তাঁদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
সিজেপির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা বিমান থেকে নামার আগেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য সিঁড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন। তাঁরা দলীয় নেতাদের আসনের দিকে এগিয়ে গেলে অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সঙ্গীরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
সিজেপির অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকে বলেন, তাঁরা দিল্লিতে অবতরণ করলেও পুলিশ তাঁদের বিমান থেকেই আটক করতে এসেছে। এ সময় তাঁকে ‘ভারতমাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, তাঁকে আটক করতে এলে তিনি প্রস্তুত আছেন। তবে এ ঘটনায় বিমানের অন্য যাত্রীরা অসুবিধায় পড়ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, তাঁরা নেতাদের গ্রেপ্তার করছেন না। একই সঙ্গে তাঁদের পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তিন নেতাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার পুলিশের একটি দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে তাঁদের কেন বিমানের ভেতর থেকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
দলের তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিজেপি। এক বিবৃতিতে দলটি পুলিশের পদক্ষেপকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ বলে উল্লেখ করেছে।
সিজেপির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নেতাদের আটক করা হয়েছে, যাতে তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।
দলটি আরও দাবি করেছে, এ ঘটনা চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক তিন নেতাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়া আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকেও শনিবার আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি জার্মানি থেকে ভারতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তার আগেই গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ধ্রুব রাঠীকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি সেই নির্দেশ মানতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়।
এর কয়েক মিনিট পর ধৌলা কুয়ান এলাকা থেকে কনটেন্ট নির্মাতা কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি ‘KK.Create’ নামে পরিচিত।
কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিপিআই(এম)। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাত।
এ ছাড়া একদল বিক্ষোভকারী রাতভর দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার বাইরে অবস্থান করেছিল। সেখান থেকেও ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন