শ্রীমঙ্গলের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বনরুটিতে সুই ও ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির বনরুটিতে একের পর এক ধারালো বস্তু পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা বনরুটির ভেতর সুই ও ব্লেড পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরি ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি শুক্ল বৈদ্যের দেওয়া বনরুটির ভেতর দুটি লম্বা সুই দেখতে পায় তার পরিবার। প্রীতির বাবা কার্তিক বৈদ্য জানান, এর আগে অন্য বিদ্যালয়ে এমন ঘটনার কথা শুনে তিনি নিজে প্যাকেটটি খোলেন। তখন রুটির ভেতরে গেঁথে থাকা দুটি সুই দেখতে পান।
এর দুই দিন আগে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমনের বনরুটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু ধারালো বস্তু পাওয়ার ঘটনাই নয়, কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার সরবরাহেও নিয়মিত অনিয়ম হচ্ছে। অনেক সময় রুটিন ভেঙে পচা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) যৌথ অর্থায়নে শ্রীমঙ্গলের ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে সপ্তাহে পাঁচ দিন বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, দুধ, বিস্কুট ও কলা বিতরণ করা হয়।
কেজুরি ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
তবে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স’-এর প্রতিনিধি আহমেদ বাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মেশিনে প্রস্তুত করা বনরুটিতে এমন বস্তু থাকা সম্ভব নয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইউএনও মহোদয় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে এবং প্রকল্পে লিখিত রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন