প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:১৪
ছবি: প্রতিনিধি
পূর্ব গৌরীপুর লতিফিয়া সমাজসেবা পরিষদের উদ্যোগে ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ শীর্ষক সেমিনার ও মাসিক খানকা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাদ আসর থেকে এশা পর্যন্ত পূর্ব মুসলিমাবাদ (মাঝমহল্লা) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলে পরিষদের সভাপতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা জ.উ.ম. আব্দুল মুনঈম মঞ্জলালী, অধ্যক্ষ, জালালপুর জালালিয়া ফাযিল মাদরাসা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবন ছিল মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের উজ্জ্বল আদর্শ। তিনি ছিলেন এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।
তিনি পূর্ব গৌরীপুর লতিফিয়া সমাজসেবা পরিষদ-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, পরিষদের নামের সঙ্গে ‘সমাজসেবা’ শব্দটি সংযুক্ত থাকায় তিনি বুঝতে পারছেন যে, এ সংগঠন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের কল্যাণে ও সমাজের খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। মহান আল্লাহ যেন এই পরিষদকে সমাজের খেদমত করার এবং নবী করিম ﷺ-এর মানবসেবার আদর্শ বাস্তবায়নের তাওফিক দান করেন।
পাশাপাশি পরিষদের নামের সঙ্গে ‘লতিফিয়া’ শব্দটি সংযুক্ত থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সবাইকে আল্লামা ফুলতলী সাহেব কিবলা (রহ.)-এর রেখে যাওয়া দ্বীনি, নৈতিক ও মানবসেবামূলক আদর্শ অনুসরণে উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নামের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সেই নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদর্শ ও মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর আদর্শ, চরিত্র ও সুন্নাহকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলা এবং পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আব্দুল মালিকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরত মাওলানা কাজী লুৎফুর রহমান সিরাজী, সুপার, মোকামবাজার সৈয়দ আং বারী সুন্নীয়া দাখিল মাদরাসা। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভ জন্মের সময় সংঘটিত অলৌকিক ও বিস্ময়কর ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন এবং এসব ঘটনার আলোকে মহানবী ﷺ-এর আগমন যে মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত—তা তুলে ধরেন।
হযরত মাওলানা কুহিনুর উদ্দিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মুসলিমাবাদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া আলিম মাদরাসা, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরিবার-পরিজনের পরিচিতি বিষয়ক আলোচনায় নবীজির নসব নামা, পরিবারের মর্যাদা, বংশপরিচয় ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
হযরত মাওলানা শেখ আব্দুল মুকিত, সহ-প্রচার সম্পাদক, আনজুমানে আল ইসলাহ সিলেট জেলা, মীলাদুন্নবী ﷺ উদযাপনের প্রয়োজনীয়তা ও শরয়ি গুরুত্ব বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি নবী করিম ﷺ-এর জন্ম ও আগমন স্মরণ করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সুন্নাহর প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ড, বালাগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজ ফাতির আহমদ।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রেদোয়ান হোসেন হেলাল, প্রচার সম্পাদক মো. ছালা উদ্দিন, সহ-প্রচার সম্পাদক মারুফ আলম তালুকদার মিজু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মনজুর হোসেন, অফিস সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা, নির্বাহী সদস্য হাফিজ দেলোয়ার হোসেন, হাফিজ মির্জা মো. মিসবাহ, মাওলানা সুজন আহমদসহ পরিষদের অন্যান্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়সমূহের সমন্বয়ে প্রকাশিত বিশেষ স্মারক সাহিত্য সংকলন ‘নূরে মীলাদ ﷺ’-এর মোড়ক উন্মোচন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে স্মারকটি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এছাড়া পরিষদের অন্যতম প্রবাসী সদস্য আমেরিকা প্রবাসী মির্জা জয়নাল-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পরিষদের সভাপতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার তাঁর সমাপনী বক্তব্যে মাহফিলের সার্বিক সফলতার জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নবী করিম ﷺ-এর ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরিশেষে প্রধান অতিথি হযরত মাওলানা জ.উ.ম. আব্দুল মুনঈম মঞ্জলালী সাহেব খানকা মাহফিল সম্পন্ন করেন এবং তাঁর দোয়ার মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মতের জন্য কল্যাণ, দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং পরিষদের সার্বিক অগ্রগতি কামনা করা হয়।
ধর্ম ও জীবন থেকে আরো পড়ুন