সংগৃহীত ছবি।
সুখ কোনো স্থায়ী অনুভূতি নয়; বরং এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণের ফলে তৈরি হওয়া সাময়িক এক অনুভব। তাই মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল সুখ হওয়া উচিত নয়। মানুষের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত আত্মতৃপ্তি ও সন্তুষ্টি।
কোরআন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের আলোকে এমন মত তুলে ধরেছেন ইসলামি বক্তা নোমান আলী খান।
পশ্চিমা সংস্কৃতি ও আধুনিক মনস্তত্ত্বে ‘সুখের সন্ধান’ বা ‘পারসুইট অব হ্যাপিনেস’কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। কোরআনে আনন্দের এমন এক ধরনের প্রকাশের কথা বলা হয়েছে, যা ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কিছু বিষয়ে আনন্দিত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে আবেগ সংযত রাখতে এবং অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে না ভাসার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ আনন্দেরও একটি সীমা ও ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।
নোমান আলী খান বলেন, প্রকৃতপক্ষে সুখ কোনো স্থায়ী অবস্থা নয়। মানুষ কখনো সুখী, কখনো অসুখী, আবার কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। পছন্দের কোনো খাবার খেলে কয়েক মুহূর্তের জন্য আনন্দ তৈরি হতে পারে। কিন্তু তা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে সেই আনন্দই অস্বস্তিতে পরিণত হয়।
জীবনের বিশেষ কিছু মুহূর্তে সুখ আসবেই। তবে কেবল সুখের পেছনে ছোটা জীবন পরিচালনার সঠিক লক্ষ্য হতে পারে না। কেউ যদি সারাক্ষণ সাময়িক আনন্দ খুঁজতে থাকে, তাহলে একসময় সে মদ, মাদক, ক্লাব বা অবৈধ সম্পর্কের মতো ক্ষণস্থায়ী আনন্দের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
এ ধরনের সাময়িক আনন্দ মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ালে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য এর চেয়ে অনেক উচ্চতর হওয়া উচিত। সুখের পরিবর্তে মনের প্রশান্তি ও সন্তুষ্টিকে জীবনের স্থায়ী ভিত্তি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আত্মতৃপ্তি তখনই অর্জিত হয়, যখন মানুষ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে জীবনযাপন করে। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, কোনো কারণে একদিনের রুটিন মিস হলে তাঁদের মধ্যে তা পূরণের তাগিদ তৈরি হয়। পরে সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারলে যে তৃপ্তি আসে, সেটিই উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনের আনন্দ।
ব্যবসায় উন্নতি, পড়াশোনা বা পরীক্ষার কাজ ঠিকভাবে শেষ করা, পেশাগত দায়িত্ব পালন, আর্থিক সিদ্ধান্ত, আধ্যাত্মিক চর্চা, শারীরিক সুস্থতা কিংবা সম্পর্ক—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।
জীবনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকলে একঘেয়েমি ও হতাশা মানুষকে সহজে গ্রাস করতে পারে না। তখন তাকে সাময়িক সুখের পেছনে ছুটতে হয় না। বরং উদ্দেশ্য অর্জনের পথেই সে প্রকৃত আনন্দ ও তৃপ্তি খুঁজে পায়।
নোমান আলী খান আরও বলেন, সাময়িক অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর করে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা যায় না। অনুপ্রেরণা কখনো বাড়ে, আবার কখনো কমে যায়। তাই মানুষকে কেবল অনুপ্রাণিত হলেই চলবে না; বরং জীবনের স্পষ্ট উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।
জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কার থাকলে ভালো বা খারাপ—যেকোনো সময় মানুষ নিজের সঠিক পথে স্থির থাকতে পারে।
সূত্র: নোমান আলী খানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.