প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৯
সাগর-রুনি হত্যা মামলা: সাড়ে ১৩ বছর কারাবন্দি এনামুলের বিরুদ্ধে মেলেনি প্রমাণ, মুক্তির দাবি পরিবারের

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাবন্দি এনামুল আহমেদের পরিবার তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া মৌলভীবাজারের বড়লেখার এনামুল আহমেদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের একটি সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকা এনামুল বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন।

এনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবীর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। জানা যায়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সময় রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভবনে নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এনামুল। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

এনামুলের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ছেলে দোষী হলে তারা তার বিচার চেয়েছিলেন, কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও অপরাধের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় শুধু সন্দেহের কারণে তাদের পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। তিনি এখন ছেলের মুক্তি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, এনামুলকে গ্রেফতারের আগে তার স্বামী কালা মিয়াকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রায় ২১ দিন পর তাকে ভৈরবের কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর তিনি শারীরিক-মানসিক নানা সমস্যায় ভুগতেন এবং কয়েক মাস আগে মারা যান বলে জানান ফাতেমা।

এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ জানান, ভাই গ্রেফতারের পর তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে তারা নিয়মিতভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারেননি। এনামুলের বিরুদ্ধে প্রমাণ না থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের নির্দেশে গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনামুলকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, যার ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাকে বর্তমানে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সাগর-রুনি হত্যা মামলায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রাথমিকভাবে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার পায় গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), এরপর র‍্যাব। দীর্ঘ সময়েও প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় তদন্তে ১২৯ বার সময় বৃদ্ধি করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এবং বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এই টাস্কফোর্সের আওতায় মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।