স্বেচ্ছাশ্রমে মাহতাবপুর-বাদাঘাট সড়ক মেরামত করছেন স্থানীয় যুবকেরা।
দুই বছর ধরে বেহাল সড়কের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একাধিক গ্রামের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় অবশেষে স্থানীয় একদল যুবক স্বেচ্ছাশ্রমে মাহতাবপুর-বাদাঘাট সড়কটি মেরামত করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী কাজ করে স্থানীয় যুবকেরা সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের কোনো সহায়তা ছাড়াই তারা এ কাজ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বৃহৎ বাণিজ্যিক এলাকা বাদাঘাট বাজার ও তাহিরপুর যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই বাইপাস সড়কটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর ছিল না। দুই বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় যুবকেরা এক দিনের স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি মেরামত করেন।
স্থানীয়রা জানান, বালিজুরী ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে কাদামাটি জমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
সূত্র জানায়, বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেনের উদ্যোগে সড়কটি আগে নির্মিত হয়েছিল। পরে সড়কে ইট সলিং করা হয়। এ বছর বর্ষার শুরুতে সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ইট সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও কাদাপানির সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাহতাবপুর গ্রামের যুবকদের নজরে এলে তারা নিজেদের উদ্যোগে একত্রিত হন। শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা বা অনুদান ছাড়াই তারা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কার করেন।
উদ্যোক্তা যুবকদের অন্যতম বিপ্লব হাসান ইমন জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতের পর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সড়কটিতে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন পুনরায় চলাচল শুরু করেছে।
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি মেরামতে অংশ নেন বিপ্লব হাসান ইমন, মো. আসাদুল হক, মো. রুহুল আমিন, মো. রফিক মিয়া, মো. মখলু মিয়া, মো. ছয়ফুল ইসলাম ও মো. দিদার হোসেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.