প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫১
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১৬৫, নিখোঁজ ১,৫০০

নেপালে আকস্মিক বন্যা। ছবি: নেপাল টাইমস

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখনো নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি।

নেপালের বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন।

নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে কাদামাটির নিচে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশ দেখা যাচ্ছে।

দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী মোতায়েন করেছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনের গিরং সীমান্তপথটি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র।