সন্তান আল্লাহ তাআলার এক মহামূল্যবান নিয়ামত। সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি দম্পতির স্বাভাবিক চাওয়া। এ কারণে অনেকেই চিকিৎসার পাশাপাশি তাবিজ, কবচ বা বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে তাবিজ ব্যবহার করা কি ইসলামে বৈধ?
এই বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি হলো— উপকার ও অপকারের প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই কোনো বস্তু বা মাধ্যমকে আল্লাহর সমকক্ষ ক্ষমতার অধিকারী মনে করা বা তার ওপর স্বাধীনভাবে ভরসা করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সন্তান দান করার একমাত্র মালিক আল্লাহ
কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, সন্তান দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কুরআনের বাণী—
لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
‘আসমান ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন, অথবা যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। আর যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আশ-শূরা: আয়াত ৪৯–৫০)
তাবিজ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশ
যদি কোনো তাবিজে শিরকি বাক্য, অজ্ঞাত চিহ্ন, জাদুমন্ত্র বা কুফরি শব্দ থাকে, অথবা সেটিকে স্বতন্ত্রভাবে উপকার-অপকারের ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করা হয়, তাহলে তা হারাম এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে—
مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ
‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলালো, সে শিরক করল।’ (মুসনাদ আহমাদ ১৭৪২২)
সন্তান লাভের জন্য নবীদের দোয়া
আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়েছেন, সন্তানের জন্য তার কাছেই দোয়া করতে হবে।
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
‘হে আমার রব! আমাকে একা রেখে দেবেন না। আপনিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮৯)
চিকিৎসাও সুন্নাহ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বৈধ চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে—
تَدَاوَوْا عِبَادَ اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ دَوَاءً
‘হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিকারও তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (আবু দাউদ ৩৮৫৫, তিরমিজি ২০৩৮)
সন্তান দান করার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তাই সন্তান লাভের জন্য সর্বপ্রথম তার কাছেই আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে, বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং তার ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখতে হবে। শিরকি তাবিজ, জাদুমন্ত্র বা কুসংস্কার থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বিরত থেকে কুরআন তিলাওয়াত, সহিহ দোয়া, রুকইয়াহ এবং আল্লাহর ওপর নির্ভর করাই অধিক নিরাপদ ও সুন্নাহসম্মত পথ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ আকিদা, সহিহ আমল এবং তার ওপর পূর্ণ ভরসা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.